এবার যুক্তরাষ্ট্রে হামলে করবে ইরানি মিসাইল: ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি ঘিরে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়
ওয়াশিংটন ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক সাম্প্রতিক ও বিস্ফোরক দাবি ঘিরে বিশ্বজুড়ে নতুন করে যুদ্ধের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ট্রাম্পের মতে, ইরান অচিরেই এমন এক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করবে যা কেবল ইউরোপ নয়, সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম হবে ।
ট্রাম্পের সতর্কবার্তা ও গোপন অস্ত্রের দাবি: জাতিকে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন যে, তেহরান গোপনে এমন সব শক্তিশালী ও উন্নত অস্ত্র তৈরি করছে যা পুরো বিশ্বকে চমকে দিতে পারে । তিনি দাবি করেন, গত মাসে উপকূল থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরে থাকা একটি মার্কিন-ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ইরান হামলার চেষ্টা চালিয়েছে, যা তাদের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতারই প্রমাণ । ট্রাম্প আরও জানান যে, মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যে ইরানের এমন কিছু উন্নত অস্ত্র ধ্বংস করে দিয়েছে, যেগুলো সম্পর্কে কেউ বিশ্বাসই করতে পারেনি । বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের বক্তব্য মূলত চলমান সামরিক সংঘাতের যৌক্তিকতা প্রমাণের একটি অংশ হতে পারে ।
গোয়েন্দা তথ্য বনাম ট্রাম্পের দাবি: তবে ট্রাম্পের এই দাবির সাথে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের ফারাক লক্ষ্য করা গেছে । গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বর্তমান সামরিক শক্তি মূলত স্বল্প ও মধ্যম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল । এই অস্ত্রগুলো মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্র দেশগুলোর জন্য বড় হুমকি হলেও কয়েক হাজার মাইল দূরে থাকা আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে আঘাত করার মতো প্রযুক্তি এখনো তাদের হাতে পুরোপুরি আসেনি । গোয়েন্দাদের মূল্যায়ন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে ইরানের অন্তত আরও এক দশক সময় লাগতে পারে এবং ২০৩৫ সালের আগে এমন ক্ষমতা অর্জন করা কঠিন হবে ।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ ও কৌশলগত উদ্দেশ্য: সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই হঠাৎ দেওয়া বক্তব্য আসলে একটি সুদূরপ্রসারী ‘চাপ তৈরির কৌশল’ হতে পারে । আন্তর্জাতিক মহলকে সতর্ক করা, মিত্র দেশগুলোকে একতাবদ্ধ করা এবং কোনো সামরিক পদক্ষেপের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড় করাই হতে পারে এই বার্তার মূল উদ্দেশ্য ।
ইরানের রহস্যময় অবস্থান: অন্যদিকে, ইরান তাদের প্রকৃত সামরিক সক্ষমতা নিয়ে সবসময় এক ধরণের অস্পষ্টতা বজায় রাখে । তারা তাদের শক্তির পুরো তথ্য কখনো প্রকাশ করে না, আবার মাঝে মাঝে শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করে থাকে, যা নিজেই এক ধরণের কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে কাজ করে । তবে এটি সত্য যে, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির নির্ভুলতা ও পাল্লা দ্রুত বাড়াচ্ছে এবং ড্রোন ও মিসাইলের সমন্বিত হামলা এখন বিশ্বজুড়ে এক নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে ।
সারসংক্ষেপে, ইরানের ভবিষ্যৎ সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্পের এই দাবি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিন্নতা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে আঞ্চলিক গণ্ডি ছাড়িয়ে বৈশ্বিক সংঘাতের রূপ দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে ।